বাংলাদেশ অনলাইন : | মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে স্পষ্ট গতি দেখা যাচ্ছে। চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম ২৫ দিনেই দেশে এসেছে আড়াই বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫৬ শতাংশ বেশি।
এই প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে। কারণ প্রবাসী আয়ের এই উল্লম্ফন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্যও ইতিবাচক। আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং বাজারে ডলারের চাপ সামাল দিতে রেমিট্যান্স বড় সহায়ক ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল থাকাও এই প্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন বাড়তি যে প্রবাসী আয় আসছে, তার বড় অংশই বিভিন্ন প্রার্থীর নির্বাচনের খরচ মেটানোর জন্য পাঠানো হচ্ছে। অনেক প্রার্থীর জন্য বিদেশে তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা প্রবাসী আয় নামে দেশে আসছে। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া সরকারের দেওয়া রেমিট্যান্স প্রণোদনা এবং ডলারের বিনিময় হারে স্থিতিশীলতাও বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে প্রবাসীদের আস্থা বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, জানুয়ারির ১ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২৬১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। প্রতিদিন গড়ে ১০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত কয়েক মাসের গড়ের চেয়েও বেশি। এই ধারা অব্যাহত থাকলে এ মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩২৫ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩২২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এটি একক মাস হিসেবে এ যাবতকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আগের মাস নভেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। আর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এসেছিল ২৬৩ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। এর আগে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে ঈদের মাস গত মার্চে। ওই মাসে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে গত বছরের পুরো সময়ে দেশে রেমিট্যান্স আসে প্রায় ৩ হাজার ২৮১ কোটি ৬৮ লাখ ডলার (৩২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন)। এটি ২০২৪ সালের তুলনায় ৫৯২ কোটি ৭৯ লাখ ডলার বা ২২ দশমিক ০৪ শতাংশ বেশি। এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) হিসাবে রেমিট্যান্স আসে প্রায় ১ হাজার ৬২৬ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।
এদিকে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, গত ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ রয়েছে ২৮ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার।
Posted ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh